আত্মহত্যায় প্ররোচনায় গাজী নজরুলের ৪ দিনের রিমান্ড, স্ত্রীর ১ দিন  

Sep 21, 2026 - 16:39
 0  3
আত্মহত্যায় প্ররোচনায় গাজী নজরুলের ৪ দিনের রিমান্ড, স্ত্রীর ১ দিন  

দ্বিতীয় স্ত্রী মরিয়ম আক্তারের ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধারের ঘটনার মামলায় সাতক্ষীরা-৪ আসনের সংসদ সদস্য গাজী নজরুল ইসলামের ৪ দিনের রিমান্ড এবং প্রথম স্ত্রী মোছা. মাকছুদা ইসলামের একদিনের রিমান্ড দিয়েছেন আদালত।

সোমবার (২১ সেপ্টেম্বর) শুনানি শেষে ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মোহাম্মদ এহসানুল ইসলাম আসামিদের জিজ্ঞাসাবাদের জন্য রিমান্ডে নেওয়ার অনুমতি দিয়েছেন।

এর আগে নিহত মরিয়মের বাবা এস এম মাসুম বিল্লাহ আত্মহত্যায় প্ররোচনার অভিযোগ এনে দণ্ডবিধির ৩০৬ ধারায় গাজী নজরুল ইসলাম ও তার প্রথম স্ত্রীসহ তিনজনের বিরুদ্ধে মামলা করেন। মামলার অপর আসামি হলেন মাসুম বিল্লাহর শ্যালক মো. ওবায়দুর রহমান।

পরবর্তীতে মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা শেরেবাংলা নগর থানার উপপরিদর্শক (এসআই) শামসুদ্দোহা সরকার আসামিদের আদালতে হাজির করে সুষ্ঠু তদন্তের স্বার্থে নিবিড় জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ৭ দিনের রিমান্ড আবেদন করেন।

এদিন দুপুর ৩টা ১১ মিনিটে পুলিশ গাজী নজরুল ইসলাম ও মাকছুদা ইসলামকে আদালতে হাজির করে।

পরে তাদের পক্ষের আইনজীবীরা ওকালতনামায় স্বাক্ষর করেন। সোয়া ৩টার দিকে বিচারক এজলাসে ওঠেন এবং আদালতের পরিস্থিতি শান্ত রাখার নির্দেশ দেন।
শুনানিতে রাষ্ট্রপক্ষে ঢাকা মহানগর দায়রা জজ আদালতের পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) ওমর ফারুক ফারুকী রিমান্ডের পক্ষে যুক্তি তুলে ধরেন। তিনি বলেন, ক্ষমতার প্রভাব দেখিয়ে ওবায়দুর রহমানকে প্রলোভন দেখিয়ে মরিয়মকে বিয়েতে বাধ্য করা হয়েছিল।

পরে তাকে বিভিন্ন আবাসিক হোটেলে নিয়ে যাওয়ার ঘটনা ঘটে এবং এ নিয়ে মামলাও হয়েছিল। পিপি বলেন, গাজী নজরুল ন্যাম ভবনের বাসায় মরিয়মকে নিয়ে থাকতেন। একই বাসায় তার প্রথম স্ত্রী মাকছুদা ইসলামও থাকতেন। ঘটনাস্থল থেকে উদ্ধার করা হাতে লেখা চিঠিতে মরিয়ম শারীরিক ও মানসিক নির্যাতনের কথা উল্লেখ করেছেন।

আত্মহত্যায় প্ররোচনার মামলা হলেও এর পেছনে হত্যার কোনো পরিকল্পনা ছিল কি না, সেটি তদন্তসাপেক্ষ বিষয় বলেও উল্লেখ করেন তিনি।

অন্যদিকে গাজী নজরুল ইসলাম ও মাকছুদা ইসলামের পক্ষে আইনজীবী মো. মাহবুবুর রহমানসহ অন্যরা রিমান্ড বাতিল করে জামিনের আবেদন করেন। তারা আদালতে বলেন, রিমান্ডের কোনো যৌক্তিকতা নেই। গাজী নজরুল একজন মুক্তিযোদ্ধা ও চারবারের সংসদ সদস্য। মামলায় তাদের বিরুদ্ধে রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদের মতো কোনো সুনির্দিষ্ট কারণ উপস্থাপন করা হয়নি। দুজনই বয়স্ক এবং তারা তদন্তে সহযোগিতা করবেন। তাই রিমান্ড বাতিল করে জামিন দেওয়া হোক।

এর আগে মরিয়মের বাবা এস এম মাসুম বিল্লাহ বাদী হয়ে শেরেবাংলা নগর থানায় গাজী নজরুল ইসলাম, তার প্রথম স্ত্রী মাকছুদা ইসলাম ও গাড়িচালক ওবায়দুল ইসলামের বিরুদ্ধে মামলাটি করেন।

এজাহার সূত্রে জানা যায়, গত জুন মাসে মরিয়মের সঙ্গে গাজী নজরুল ইসলামের ইসলামী শরিয়াহ অনুযায়ী বিয়ে হয়। নজরুল শেরেবাংলা নগর থানার মানিক মিয়া অ্যাভিনিউসংলগ্ন ন্যাম ভবনের ৫ নম্বর ভবনের ২০৩ নম্বর ফ্ল্যাটে থাকতেন। একই ফ্ল্যাটে তার প্রথম স্ত্রী মাকছুদা ইসলামও বসবাস করতেন।

এজাহারে অভিযোগ করা হয়, বিয়ের পর থেকেই নজরুল ও মাকছুদা বিভিন্ন বিষয় নিয়ে মরিয়মের ওপর শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন চালিয়ে আসছিলেন। মরিয়ম মুঠোফোনে একাধিকবার তার পরিবারের সদস্যদের কাছে এসব নির্যাতনের কথা জানিয়েছিলেন।

এজাহারে আরো বলা হয়, ২০ সেপ্টেম্বর বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে নজরুল ইসলাম ফোন করে মরিয়মের বাবাকে দ্রুত বাসায় আসতে বলেন। খবর পেয়ে তিনি মরিয়মের খালা সুফিয়াকে সঙ্গে নিয়ে ওই বাসায় যান। ফ্ল্যাটের কক্ষের দরজা ভেতর থেকে বন্ধ ছিল। জানালা দিয়ে সিলিং ফ্যানের সঙ্গে ওড়না পেঁচানো অবস্থায় মরিয়মকে ঝুলতে দেখা যায়।

পরে পুলিশের উপস্থিতিতে গণপূর্ত বিভাগের (পিডব্লিউডি) কর্মী সাইদুল ইসলাম শাবল দিয়ে দরজা ভেঙে কক্ষে প্রবেশ করেন। পুলিশ মরিয়মের বিছানা থেকে হাতে লেখা একটি চিঠি উদ্ধার করে। সেখানে বিশ্বাসভঙ্গ, তীব্র মানসিক কষ্ট ও সম্পর্কের টানাপোড়েনের কথা লেখা রয়েছে বলে এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে।

পরিবারের অভিযোগ, গাড়িচালক ওবায়দুল ইসলামের মধ্যস্থতা ও প্ররোচনায় মরিয়মের সঙ্গে গাজী নজরুলের বিয়ে হয়। পরে নজরুল ও মাকছুদার নির্যাতন এবং আসামিদের প্ররোচনা সহ্য করতে না পেরে মরিয়ম আত্মহত্যার পথ বেছে নেন।

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow

বাংলাদেশ ভিশন: বাংলাদেশ রাষ্ট্র, সরকার, উন্নয়ন, নীতি, গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠান ও জাতীয় রূপান্তর সম্পর্কে বাংলা ভাষার সর্বাধিক বিশ্বাসযোগ্য, গবেষণানির্ভর এবং প্রভাবশালী জ্ঞানভান্ডার হওয়া; যা নাগরিক, নীতিনির্ধারক, গবেষক, শিক্ষার্থী এবং আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের জন্য বাংলাদেশের নির্ভরযোগ্য রেফারেন্স প্ল্যাটফর্ম হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হবে। মিশন: বাংলাদেশের রাষ্ট্রনীতি, শাসনব্যবস্থা, জননীতি, জাতীয় উন্নয়ন, মেগা প্রকল্প এবং সমসাময়িক জাতীয় ইস্যুসমূহকে তথ্য-যাচাই, গবেষণা, ডেটা বিশ্লেষণ এবং প্রেক্ষাপটসমৃদ্ধ সাংবাদিকতার মাধ্যমে উপস্থাপন করা; যাতে নাগরিকেরা শুধু "কি ঘটেছে" নয়, বরং "কেন ঘটেছে", "এর প্রভাব কী" এবং "এর ভবিষ্যৎ তাৎপর্য কী"—তা বুঝতে পারেন।